প্রকাশের সময়: ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮
Close [X]

এক লাফে ১০ ধাপ এগিয়ে গেলেন মোস্তাফিজ

বাংলাদেশের হাসি মুখের ঘাতক মোস্তাফিজুর রহমান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে পুরনো ছন্দে ফিরেছেন এই কাটার মাস্টার। চট্টগ্রাম-ঢাকা দুই টেস্টে স্পিন-সহায়ক উইকেটেও ৬ উইকেট শিকার করেছেন এই পেসার। যার ফল পেলেন আইসিসি’র র‌্যাঙ্কিংয়ে। এক লাফে ১০ ধাপ এগিয়ে গেছেন তিনি। দখল করেছেন ৪৯তম স্থান।

মোস্তাফিজ ছাড়াও র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে স্পিনার তাইজুল ইসলামের। ঢাকা টেস্ট চারটি এবং চট্টগ্রাম টেস্টের দুই ইনিংসে চারটি করে আটটি, মোট ১২টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। ফলে দুই ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ার সেরা ৩৪তম অবস্থানে চলে এসেছেন এই স্পিনার।

এছাড়া দীর্ঘ দিন পর জাতীয় দলে ফিরে সেরা এক শ’তে জায়গা পেয়েছেন আবদুর রাজ্জাকও। এই স্পিনার রয়েছেন ৯৫তম অবস্থানে।

আইসিসি’র র‌্যাঙ্কিংয়ে বোলারদের উন্নতি হলেও অবনতি হয়েছে ব্যাটসম্যানদের।

৩১৪ রান করে সিরিজের সেরা ব্যাটসম্যান হলেও র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়নি মুমিনুল হকের। তিন ধাপ অবনমনে অবস্থান ৩০।

পাঁচ ধাপ পিছিয়ে ২৬ নম্বরে অবস্থান করছেন তামিম ইকবাল। তিন ধাপ পিছিয়ে মুশফিকুর রহিম ২৮-এ। ছয় ধাপ পিছিয়েছেন দুই টেস্টে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেয়া মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি এখন ৫৪ নম্বরে।

১৭ ধাপ পিছিয়ে সাব্বির চলে গেছেন এক শ’র বাইরে (১০৪তম)। তবে টেস্ট সিরিজে না খেললেও ব্যাটসম্যান র‌্যাঙ্কিংয়ে ২২তম অবস্থান ধরে রেখেছেন সাকিব আল হাসান।

দুর্বলতাগুলো মাথায় রেখে মাস্টার প্ল্যান করতে হবে…

অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য পিচ তৈরি করা আর উপমহাদেশের ভারত, পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার জন্য একই পিচ করা এক কথা নয়। অবশেষে হাতুরা-বধ তো হলোই না, বরং তার কাছেই ধরাশায়ী হতে হলো বাংলাদেশ টেস্ট শিবিরকে। চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র করার পর মিরপুরেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একই স্বপ্ন কিংবা তারও বেশি দেখেছিল টাইগাররা। এমন পিচে সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডকে হারানোর স্মৃতিই ছিল সঙ্গী। কিন্তু শ্রীলঙ্কার কাছে ২১৫ রানের হারের জ্বালাটাও বড্ড বেদনাদায়ক। পাঁচ দিনের টেস্ট- সেটিও আবার আড়াই দিনে। বাংলাদেশকে দুই ইনিংসে ১১০ ও ১২৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে আড়াই দিনের টেস্ট শেষ করে শ্রীলঙ্কা সিরিজ জিতল ১-০ তে। বাংলাদেশের সাবেক ওপেনার জাভেদ ওমর বেলিম গুল্লুও স্বীকার করে নিলেন উইকেটের কারণেই হেরেছে বাংলাদেশ। তাহলে কি অদৃশ্যভাবে শ্রীলঙ্কান কিউরেটর গামিনির কাছেই হারল বাংলাদেশ।

গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে লজ্জাজনক হারের পর সবাই দুষলেন ব্যাটসম্যানদের। বোলাররা প্রতিপক্ষকে দুই ইনিংসে ২২২ ও ২২৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে প্রশংসা পেয়েছেন। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ক্ষমাহীন ব্যর্থতার মাঝে উইকেটের প্রসঙ্গই আগে উঠে আসে বিশেষজ্ঞদের আলোচনায়। ঢাকায় এ দিন দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের যবনিকার পর সাবেক ওপেনার জাভেদ ওমর বেলিম ‘উইকেট’ বিষয়ে অপ্রিয় সত্যটাই বড় করে তুলে ধরলেন। ‘অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের সাথে স্পিনিং উইকেটে সাফল্য হয়তো মিলবে। কিন্তু উপমহাদেশের দলগুলোর সাথে যে তা সম্ভব নয়।’

শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংসে ২২২ রান করার পর বাংলাদেশ ১১০ রানে অল আউট। জাভেদের বিশ্বাস উইকেটই হারের প্রধানতম কারণ, ‘আমরা তো হেরে গেছি প্রথম ইনিংসেই। বোলিং ওরাও করল আমরাও করলাম। ওরা ২২২ রান করল আর আমরা ১১০ রানে অল আউট। আমরা অনেক কম রানে অল আউট হয়েছি। ১৮০ বা ২০০ রান যদি করতে পারতাম তাহলেও চিত্র বদলে যেত। প্রথম ইনিংসে ওরা বড় লিড পাওয়ার কথা ছিল না। ওখানেই তো আমরা হেরে গেছি।’

স্পিনিং উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ধনঞ্জয়া ও রঙ্গনা হেরাথের স্পিনেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। কিন্তু সেই প্রশ্নে জাভেদ লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের কথা বলেন। যারা এমন উইকেটেও দারুণ ধারাবাহিক। প্রথম ইনিংসে ২২২ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংস ২২৬ করল।

জাভেদের কথায় স্বাগতিকদের ভুলের কথাটিই বেরিয়ে আসে, ‘১১০ বা ১২৩ রানে অল আউট হয়েছে বাংলাদেশ। ক্রিকেটে এমন হতেই পারে। এই স্পিন উইকেট বানিয়ে আমরা ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিতেছি। কিন্তু আপনি যখন উপমহাদেশের দলের সাথে খেলবেন, তখন আর সেই সূত্র কাজে আসবে না। কারণ অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড আমাদের কন্ডিশনে অভ্যস্ত নয় ঠিক। কিন্তু শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান তো এক নয়।’

কোনো সিরিজের আগে প্রতিপক্ষের সাথে কেমন উইকেটে খেলতে হবে সেটি নিয়ে নির্দিষ্ট সুপরিকল্পনা দাঁড় করানোর দিকে জোর দিলেন জাভেদ, ‘মাথায় রাখতে হবে আমাদের শক্তি আর দুর্বলতা কোন জায়গায়। এগুলো মেনেই আমাদের উইকেটের হেল্প নিতে হবে। সে হিসেবে মাস্টার প্ল্যান নিতে হবে।’