প্রকাশের সময়: ১০:১২ অপরাহ্ণ | সোমবার, আগস্ট ২৮, ২০১৭
Close [X]

বরুড়ায় মাছ চাষে সফল কে. এম. গোলাম সরওয়ার

রিয়াজ উদ্দিন রানাঃ
বরুড়ায় ব্যক্তি উদ্যোগে মাছ চাষ করে সফল হয়েছেন মৎস্য চাষি কে. এম. গোলাম সরওয়ার। তার এই উদ্যোগে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে শতাধিক মানুষের। মাছ চাষে এখন আগ্রহী হয়ে উঠছেন এলাকার অনেকে। তিনি এলাকায় মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
বরুড়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের মৃত. মুক্তিযোদ্বা তাজুল ইসলামের ছেলে কে. এম. গোলাম সরওয়ার । মাছ চাষে তার কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিলনা। ২০০৩ সালে লক্ষাধিক টাকা পুঁজি নিয়ে দু’টি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। পরে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি পর্যায়ের পুকুর লীজ নিয়ে মাছ চাষের পরিসর বাড়াতে থাকেন।এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তিনি১৭ একর জায়গায় ১৯টি পুকুরে মাছ চাষ করছেন। এসব পুকুরে তেলাপিয়া,রুই, কাতল, মৃগেল,কই, পাবদা, শিং, মাগুরসহ নানা প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে। গত বছর তিনি ৬০ লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি করে ১৩ লক্ষ টাকা আয় করেন। তিনি বরুড়ায় মাছের চাহিদার বেশির ভাগ অংশ পূরণ করে থাকে। তার সাফল্য দেখে ওই গ্রামের অনেকেই এখন মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। মাছচাষ প্রতিদিনই কেউ না কেউ তার কাছে এসে নানান পরামর্শ নেন। তিনিও সবাইকে পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করছেন।
এদিকে মাছ চাষের পূর্বে তিনি পোল্টি ফার্মে তেমন সফল হতে না পারলেও বর্তমানে মাছ চাষে সফলতা দেখছেন। মাছ চাষে সফল এ ব্যক্তিটি নিজের সাফল্য ছড়িয়ে দিয়ে রীতিমতো নায়কে পরিণত হয়েছেন নিজ এলাকায়। নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বী করছেন অন্যদেরও। এলাকার অর্থনৈতিক অগ্রগতি আবর্তিত হচ্ছে তাকে ঘিরে। মাছচাষে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বিভিন্ন জায়গায়। কে. এম. গোলাম সরওয়ার বলেন, সঠিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করলে লাভবান হওয়া যায়। মাছ চাষের জন্য তিনি যুব উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। আমি শুরুতে তেমন আয় করতে না পারলেও বর্তমানে ভাল আয় করতে পারছি। মাছ চাষের পাশাপাশি প্রায় ২লক্ষ টাকার সবজি ও বিক্রি করেছি। সব দিক থেকে ভাল থাকলেও তিনি কিছু সমস্যার জন্য মাছ চাষে বাঁধা রয়েছে। মাছ চাষের জন্য সরকারি ভাবে কোন ঋণ পাইনি। মাছ চাষের জন্য বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে তার লাভের পরিমান কম হয়। অন্য দিকে বরুড়া থেকে ভবানীপুর গ্রামের রাস্তাটির বেহাল দশা অবস্থার কারণে পরিবহন ভাড়া দ্বিগুণ বহন করতে হচ্ছে। ফলে মাছের খাদ্য ও মাছ বিক্রি করতে তার আমার অনেক সমস্যা হয়।
জানা যায়, তিনি ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখেন কিভাবে গ্রাম ভিত্তিক শিল্প তৈরি করা যায়। গ্রাম ভিত্তিক শিল্প তৈরি করে এলাকার বেকারত্ব দূর করে, দেশের আমিষের চাহিদা পূরণ করে, গ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিভিন্ এলাকার মাছ চাষে আগ্রহ তৈরি করা, আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তিতে মাছ চাষ করে ছড়িয়ে দেওয়াই তার লক্ষ। আমাদের প্রতিবেদক সরেজমিনে গিয়ে দেখে, রাস্তাটির বেহাল দশা। এই এলাকার মানুষ রাস্তাটির জন্য কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এ রাস্তাটি দেখার যেন কেউ নেই? রাস্তাটির কারণে মাছ চাষী গোলাম সরওয়ারের মত অনেকে কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। তাই গোলাম সরওয়ার তার খামারে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সহ রাস্তাটি সংস্কার করতে প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছেন।