প্রকাশের সময়: ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, জানুয়ারি ১৮, ২০১৭
Close [X]

যুবদলের নতুন কমিটি ঘিরে চাপা অসন্তোষ

বর্তমান সরকারের সময়ে রাজপথের আন্দোলন বা সাংগঠনিক কর্মকান্ডে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতাই বলতে গেলে খুব সক্রিয় ছিলেন না। সঙ্গত কারণেই ব্যর্থতার তকমা পাওয়া এবং হুলিয়া নিয়ে পালিয়ে থাকা নেতাদের নেতৃত্বেই ঘোষণা করা হয়েছে যুবদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি। এ নিয়ে দলটিতে ক্ষোভ-অসন্তোষ রয়েছে। তবে প্রথম দিনে নেতিবাচক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি বিক্ষুব্ধরা।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ সাত বছর পর ১৬ জানুয়ারি মধ্যরাতে ঘোষণা করা হয়েছে যুবদলের পাঁচ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি। আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরবকে সভাপতি ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। অন্য তিনজন হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

বিএনপি ও যুবদলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীর্ষ দুই নেতা নিরব ও টুকুর বিরুদ্ধে শতাধিক মামলার পরোয়ানা ভাবিয়ে তুলেছে তাদের। এসব মামলায় জামিন নয়, অনেকটা আত্মগোপনে রয়েছেন তারা। হুলিয়া নিয়ে পালিয়ে থাকা দুই শীর্ষ নেতা সংগঠনের পক্ষে কতটা প্রকাশ্যে কাজ করতে পারবেন, এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে শংকা। নেতাকর্মীদের মতে, শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে না এলে সংগঠনে আরও স্থবিরতা নেমে আসতে পারে। এ ছাড়া কমিটি গঠনের আগে নিরব ও টুকুর মধ্যে চলা দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকলে তা সংগঠনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। এদিকে কমিটি ঘোষণার পর নেতারা মঙ্গলবার নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ব্যাপক শোডাউন করে। কমিটি নিয়ে অনেকের মাঝে চাপা ক্ষোভ থাকলেও প্রকাশ্যে কারো বিরোধিতা দেখা যায়নি।
দুপুরে কার্যালয়ের সামনে শোডাউন করেন নতুন নেতৃত্ব। সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে যুবদলের সভাপতি নিরব বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখে তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন, তা তারা অক্ষুণ্ন রাখবেন। আর এ দিনে শপথ হচ্ছে, সারাদেশের যুবসমাজকে একত্রিত করে বর্তমান বাকশালী সরকারকে সরিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা।
সাধারণ সম্পাদক টুকু বলেন, এবারের কমিটি হবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী। কোয়ালিটি সম্পন্ন কমিটি হবে। তা ২৭১ সদস্যের বেশি নয়। এখানে কমিটি গঠনে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে, সদ্য বিলুপ্ত হওয়া যুবদলের যোগ্য ও ত্যাগীদেরও মূল্যায়ণ করা হবে।
২০১০ সালের এক মার্চ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে সভাপতি ও সাইফুল আলম নিরবকে সাধারণ সম্পাদক এবং আ ক ম মোজাম্মেল হককে সাংগঠনিক সম্পাদক করে যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১৩ সালে শেষ হয় কমিটির মেয়াদ। এরপর কয়েকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও কমিটি পুনর্গঠন সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত সোমবার রাতে পাঁচ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। প্রত্যাশিত পদ না পেয়ে কয়েক নেতার ক্ষোভ থাকলেও তারা প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ তদবির চালিয়েও ব্যর্থ হন। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদ প্রত্যাশা ছিল যুবদল নেতা মাহবুবুল হাসান ভুঁইয়া পিংকুর। কিন্তু তাদের সেখানে রাখা হয়নি।
যুবদলের একটি সূত্র জানায়,মাহবুবুল হাসান পিংকুকে এক নাম্বার সহ-সভাপতি অথবা দুই নাম্বার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করা হতে পারে। এ নিয়ে দলের শীর্ষপর্যায়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আর নিরব ও টুকু যুবদলের কমিটিতে আসছেন এটা আগে থেকেই অনুমান করা গেছে। বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উভয়ের বিরুদ্ধে গ্রুপিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। যোগ্যতার চেয়ে তারা নিজস্ব বলয়ের লোকদেরই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। তাই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগীরা জায়গা পাবেন কি না, এ নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। ছাত্রদলের সভাপতি থাকাবস্থায় টুকু বিশাল একটি বলয় তৈরি করেন। তিনি চাইবেন তার বলয়ের নেতাদের যুবদলে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিতে। এদিকে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক থাকাবস্থায় নিরবের ছিল নিজস্ব বলয়। তিনিও চাইবেন তার আস্থাভাজনদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনতে। এ নিয়ে নিরব ও টুকুর মধ্যে নতুন করে সৃষ্টি হতে পারে দ্বন্দ্ব। এই দুই নেতা ছাড়াও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসানেরও নিজস্ব বলয় রয়েছে।
এ ব্যাপারে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু যায়যায়দিনকে বলেন, যোগ্যতা ও দক্ষতা বিবেচনা করেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেয়া হবে। স্বজনপ্রীতির প্রশ্নই আসে না। তবে ছাত্রদলের সাবেক নেতারা নিয়ম অনুযায়ী যুবদলে জায়গা পান। এবারের কমিটিতেও ছাত্রদলের সাবেক নেতারা জায়গা পাবেন। তবে ছাত্রদলের সাবেক নেতা হলেই হবে না, তাদের যোগ্য ও ত্যাগী হতে হবে।