প্রকাশের সময়: ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮
Close [X]

‘রাস্তায় গেলে মারও খেতে হতে পারে’!

নানা প্রশ্নে জেরবার বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট বলতে একটা সময় যেটি ছিল ‘চন্ডিকা হাথুরুসিংহে’, এখন সেটি ‘খালেদ মাহমুদ’। টেকনিক্যাল ডিরেক্টর নাম নিয়ে বাংলাদেশ দলের তত্ত্বাবধান করা মাহমুদ কি পারছেন তাঁর দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে?
প্রশ্নগুলো নানাভাবে উঠেছে গত কদিনে। চট্টগ্রাম টেস্টে খেলা মোসাদ্দেক হোসেনকে হুট করে কেন ঢাকা টেস্টে বাদ দেওয়া হলো, ক্লাব-স্বার্থকে বড় করে দেখতে গিয়ে কি এ সিদ্ধান্ত? মাহমুদ আবাহনীর কোচ, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোসাদ্দেক খেলছেন আবাহনীতেই।

বিষয়টি নিয়ে খবর প্রকাশিত হওয়ায় সংবাদমাধ্যমের ওপর বেজায় চটেছেন মাহমুদ, ‘টেকনিক্যালি হয়তো খারাপ হতে পারি। যখন খবর আসে যে আমি আবাহনীর প্রধান কোচ, আমি মোসাদ্দেককে খেলাইনি আবাহনীতে খেলার জন্য! যখন জাতীয় স্বার্থ নিয়ে (মাহমুদের বিরুদ্ধে) কথা বলা খুবই আহত করে। বাংলাদেশের চেয়ে আবাহনী বা অন্য কিছু আমাকে স্পর্শ করতে পারে না। জীবনেও স্পর্শ করতে পারবে না, স্পর্শ করেওনি। তখন মনে হয়, এত বছর ক্রিকেটের সঙ্গে থেকে আসলে কী লাভ হলো? মোসাদ্দেক আর আবাহনী যদি বাংলাদেশের ম্যাচ হারার কারণ হয়…! ৫৩ বলে ৯ (৮) করেছে (মোসাদ্দেক, চট্টগ্রাম টেস্টে), আমারও ক্রিকেটজ্ঞান আছে। ১৯৮৩ সালে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছি। চুলও পেকে গেছে। কে পারে, কে পারে না, কখন কাকে দরকার, এটা বুঝি।’

মাহমুদ মনে করেন, সংবাদমাধ্যম অনুমাননির্ভর হয়ে অনেক কিছু প্রতিষ্ঠিত করছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি টেনেছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিদায়-প্রসঙ্গ, ‘আপনারা প্রতিষ্ঠা করতে চান। চন্ডিকা চলে গেল কেন? এটা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আমরা তো বাচ্চা-খোকা না! সবাই বড় হয়েছি। অনেক কিছু প্রতিষ্ঠা করা হয়। আমার পেছনে যদি লেগে থাকা হয়, আমি ভালো করলেও সুনাম হবে না। সেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা সংবাদমাধ্যম বলেন। আজ এমনও শুনেছি যে রাস্তায় গেলে আমাকে মারও খেতে হতে পারে! ক্রিকেট খেলার জন্য মার খেতে হলে সেটা বিব্রতকর ব্যাপার। কথার কথা বললাম আর কী!’

দীর্ঘ মন্তব্যের পর একটু থামলেন, ‘আমি ইমোশনাল হয়ে গেছি হয়তো।’ পরে নিজেদের আত্মমূল্যায়ন করলেন এভাবে, ‘উইকেট যে এমন হবে, এটা ১৫-২০ দিন আগে থেকে সবাই জানত। চট্টগ্রামেও এই উইকেট হওয়ার কথা ছিল, আমাদের দুর্ভাগ্য যে হয়নি। ঢাকায় হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টার্নিং উইকেটে খেলা যাবে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে কেন নয়? এমন কী আছে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে এই উইকেটে আমরা খেলতে পারব না? আমাদের শক্তি, তাদের শক্তি দেখেন। আমাদের স্পিনার নেই? বলতে পারেন আমাদের সাকিব (আল হাসান) নেই। প্রথম শ্রেণিতে আমাদের রাজ্জাক ৫০০ উইকেট পাওয়া বোলার। কীভাবে বলব অভিজ্ঞতা নেই? ওদের আকিলা অভিষেক টেস্টে ৫ উইকেট নিল। তাইজুল তো ওর চেয়ে বেশি খেলেছে। মিরাজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯ উইকেট নিয়েছে। কীভাবে বলব আমাদের অভিজ্ঞতা নেই। শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়েরা কি ঈশ্বর? ওরা কি একেকজন স্টিভ স্মিথ? ২০০ টেস্ট খেলা খেলোয়াড়? ভাবি না যে আমাদের খেলোয়াড়েরাই ভুল করেছে।’

টেস্টের পঞ্চম দিনে দলের বিপদের সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে এক ব্যাটসম্যানের ৫৩ বলে ৯ রানের গুরুত্ব কতটা সে আলোচনা অথবা সাকিববিহীন বোলিং আক্রমণ নিয়ে স্পিনিং উইকেটে খেলতে নামা অথবা হেরাথ, দিলরুয়ান কিংবা সান্দাকানদের অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইংল্যান্ডের স্পিনারদের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলার প্রসঙ্গটা নাহয় তোলাই থাকল। কিন্তু ব্যর্থতার সমালোচনা করায় দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের সংবাদমাধ্যমের ওপর প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝাড়া, খেলোয়াড়দের কাঠগড়ায় তোলা—বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমের পরিবেশটা কেমন হয়ে উঠেছে, দূর থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে!