প্রকাশের সময়: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, আগস্ট ২, ২০১৭
Close [X]

লেবানন আ’লীগ একাংশের সংবাদ সম্মেলনের জবাবে আরেক অংশের সংবাদ সম্মেলন

জসিম উদ্দীন সরকার, লেবানন: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেবানন শাখার একাংশের নেতৃবৃন্দের সংবাদ সম্মেলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে লেবানন শাখা আওয়ামী লীগের আরেক অংশ।  বহিষ্কিত নেতা আলী আকবর মোল্লা, মুক্তিযোদ্ধা আলী আশরাফ ভূইয়া ও সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ বৈরুত দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার ও কতিপয় নামধারী আওয়ামী লীগ নেতাদের পরিকল্পিত। এসকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করেন তারা।

মঙ্গলবার রাতে বৈরুতের নেজমা ষ্টিডিয়ামের ক্যাফেটারিয়ায় আয়োজিত সংবাদ সম্মলেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন একাংশের সভাপতি আলী আকবর মোল্লা ও সম্মেলন পরিচালনা করেন  সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মিয়া।

আলী আকবর মোল্লা অভিযোগ করেন, আওয়ামীলীগের সুনাম নষ্ট করতে রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকারের অর্থায়নে ও প্রশাসনিক সহায়তায়, কতিপয় আওয়ামী নামধারী নারী কেলেংকারীতে জড়িত নেতৃবৃন্দের পরিল্পিত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রায় ৫ হাজার অবৈধ প্রবাসী বাংলাদেশী দেশে যাওয়ার জন্যে নাম নিবন্ধন করেছে এবং প্রায় ২০০০ হাজার এর উপর অধিক বাংলাদেশী ইতিমধ্যেই দূতাবাসের সহায়তায় দেশে প্রত্যাবর্তন করেছে। সেই সুবাদে রাষ্ট্রদূত প্রায় ৫ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা দুর্নীতি করেছে এবং দূতাবাসে নিয়োগ বাণিজ্য ও ভিসার জব কন্ট্রাক সহ ওয়েলফেয়ার এর টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। রাষ্ট্রদূতের অনিয়ম ও দুর্নীতির সকল তথ্য বিবরনী পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সহ বর্তমান সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সকল প্রবাসীদের পক্ষে আলী আশরাফ ভূঁইয়া আবেদন আকারে অবহিত করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত ক্ষুদ্ধ হয়ে কিছু ভিসা ব্যবসায়ী নামধারী নারী কেলেংকারীতে অভিযুক্ত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের লেবানন শাখা থেকে বহিষ্কৃত সাংগঠনিক নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কতিপয় সুবিধাবাদী নেতার মাধ্যমে ৪০০০ মার্কিন ডলার দিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে কিছু সহজ সরল প্রবাসী ভাই-বোনদেরকে মিথ্যা কথা বলে, গাড়ী ভাড়া করে রাষ্ট্রদূতের সহযোগীতায় স্থানীয় পুলিশ প্রহরায় তথাকথিত সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ আওয়ামী লেবানন শাখার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে।

তিনি বলেন, সাবেক সাধারন সম্পাদক রুবেল আহম্মেদ, যিনি ইদানিং বাবুল মুন্সীর একাংশে যোগদান করেছেন, তিনি কি ভাবে জ্যেষ্ঠ পদস্থ নেতৃবৃন্দকে বহিষ্কার করেন?তা সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যকলাপ এবং তার এই অনৈতিক  কার্যকলাপের জন্যই বিগত ২৩/৭/২০১৭ ইং তারিখে সভাপতি জরুরী সাধারন সভা আহব্বান করে কার্যকরী নেতৃবৃন্দের সর্বসম্মতি ক্রমে তাকে সংগঠনের সাধারন সম্পাদক থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়।  এমনকি উপস্থিত সবার দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সাধারন সদস্য থেকেও বহিষ্কার করা হয়। আবুল বাশার প্রধান ও সুফিয়া আক্তার বেবীর বিরুদ্ধে লেবাননে  টুরিস্ট ভিসার নামে দালালীর অভিযোগ রয়েছে। আবুল বাশার প্রধান বর্তমানে যে গাড়ীটি ব্যবহার করছেন, সেই গাড়ীটি তিনি দূতাবাসের এক সাবেক কর্মকর্তার দেয়া উৎকোচ হিসেবে পেয়েছেন । রাষ্ট্রদূত এসব সুবিধাবাদী লোকদের মাধ্যমে লেবাননে আওয়ামীলীগের রাজনীতি ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন করে আলী আকবর মোল্লা বলেন, ১৬ কোটি মানুষের আস্থা, দেশরত্ন বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের নিকট আকূল আবেদন, দুর্নীতিবাজ রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকারকে লেবানন দূতাবাস থেকে প্রত্যাহার করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, তার বিরুদ্ধে লাকী আক্তার নামে মহিলা যে অভিযোগ এনেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সে অন্যের শিখিয়ে দেওয়া বুলি নিজের মুখে বলেছে। সে নিজেও একজন মহিলা দালাল।  দূতাবাস যে বিল্ডিং এ অবস্থিত সেই বিল্ডিংএ আমি কাজ করি, অতএব সেই বিল্ডিংএর নিচে কফির দোকানে বসা আমার কোন দোষ হতে পারেনা। আর সাধারন প্রবাসীদের সাহায্য করলেই কি তাকে দালাল বলে।

আলী আকবর মোল্লা আরো বলেন, আলী আশারাফ ভূইয়া তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা তাকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বলা মানে বাংলাদেশের সর্বভৌমত্বে আঘাত করা।  তিনি লেবানন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং লেবাননে তিনি একটি পেট্রল পাম্পে ১৫থেকে ১৮ কাজ করেন, তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ হস্যকর ছাড়া কিছু নয়। সোহেল মিয়া একজন মেধাবী সাংগঠনিক ছেলে, তার মেধাকে কতিপয় নেতারা ভয়পায় বলে তার বিরুদ্ধেও মিথ্যা অভিযোগ তুলে, আর এদের বহিষ্কার করার ক্ষমতা সাংগঠনিক ভাবে একমাত্র সেন্টাল কমিটির হাতে একজন বহিষ্কিত সাধারন সম্পাদক অন্য গ্রপের সাথে মিশে আমাদের বহিষ্কার করা হাস্যকর। আমরা বঙ্গবন্ধর আদর্শের সৈনিক কোন অন্যয়, অসাংগঠনিক আদেশ আমরা মানিনা।

সংবাদ সম্মেলনে লেবানন আওয়ামৌ লীগ আলী আকবর অংশের অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।