প্রকাশের সময়: ৭:৪০ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৬
Close [X]

আউটার রিং রোড প্রকল্প একনেকে অনুমোদন , বদলে যাবে চট্টগ্রামের চেহারা।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা বৃহৎ চট্টগ্রাম আউটার রিং রোড ও বায়েজিদ বাইপাস রোড প্রকল্পের বাড়তি ব্যয় অনুমোদন দেয়া হয়েছে গতকাল। ২ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকার এ দুইটি প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। প্রকল্প দুইটি বাস্তবায়ন হলে আক্ষরিক অর্থেই চট্টগ্রামের চেহারা পাল্টে যাবে। পর্যটন সমৃদ্ধ এক স্বপ্নের নগরে পরিণত হবে চট্টগ্রাম। কেবল নগরীই নয়, চট্টগ্রামের যান চলাচলে বড় ধরনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। ২০১৮ সালে প্রকল্প দুইটির কাজ শেষ হবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ প্রকল্প হচ্ছে চট্টগ্রাম আউটার রিং রোড প্রকল্প। এই প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪৯৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এই টাকার অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরুও করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রকল্পের বিভিন্ন পরিবর্তন এবং পরিবর্ধনের কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৪২৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা। একটি প্রকল্পেই বাড়তি অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সংস্থান এবং অনুমোদন নিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে। প্রকল্পের ভবিষ্যতও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অপরদিকে ফৌজদারহাট থেকে বায়েজিদ বাইপাস রোডের ব্যয় নির্ধারণ করা ছিল ১৭২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজ বহুলাংশে অগ্রসর হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে ব্‌্িরজ কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কারণে খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৩২০ কোটি টাকা। বাড়তি ১৪৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা নিয়ে এই প্রকল্পের ভবিষ্যতও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। গতকাল এই বাড়তি টাকারও অনুমোদন দিয়েছে একনেক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের সভায় আউটার রিং রোড এবং ফৌজদারহাট বায়েজিদ বোস্তামী বাইপাস সড়কের সর্বমোট ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকার বাড়তি অর্থের অনুমোদন দেয়া হয়। একইসাথে প্রকল্প দুইটিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ফৌজদারহাটবায়েজিদ বাইপাস সড়কটি আউটার রিং রোডের অংশ হয়ে নগরীর যান চলাচল এবং পর্যটন, শিল্পায়ন এবং আবাসনে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একজন পদস্থ কর্মকর্তা গতকাল  জানান, নগরীর পতেঙ্গা থেকে সাগরিকা বিভাগীয় স্টেডিয়ামের সন্নিকট পর্যন্ত ১৭.১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বেশ আগে গ্রহণ করা প্রকল্পটির কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সড়কটি মাটির নিচের অংশে তিনশ’ ফুট চওড়া হবে। ত্রিশ ফুট উচু সড়কটির মুল প্রস্থ হবে ৮৪ ফুট। ১৫.২ কিলোমিটার কোস্টাল রোডের পতেঙ্গা পয়েন্ট থেকে পাঁচ কিলোমিটার সাগরের ১০০ ফুট ভেতরে গিয়ে একটি ওয়েভ প্রোটেকশন ওয়াল বা ঢেউ প্রতিরোধক দেয়াল নির্মাণ করা হবে। এ দেয়ালের ভেতরে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ একশ’ ফুট চওড়া জায়গাটিতে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। প্রকল্প সারপত্র অনুযায়ী পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং একশ’ ফুট প্রস্থ জায়গাটিতে একই সাথে দশ হাজার মানুষ অবস্থান করতে পারবে। পাঁচ কিলোমিটার জায়গায় ছয়টি জেটি নির্মাণ করা হবে। যেখান থেকে স্পীড বোট, ক্রুসিং ভ্যাসেল ইত্যাদি চলাচল করবে। মোট ৫৩ হাজার ৬শ’ বর্গমিটার জায়গায় ল্যান্ডস্কেপিং করা হবে। পুরো এলাকাটিতে লাগানো হবে এলইডি লাইট, সাগরে গোছলের পর কাপড় চেঞ্জসহ বিভিন্ন প্রয়োজন সারতে ত্রিশটি ওয়াশরুম নির্মাণ করা হবে। পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াক ওয়ে ছাড়াও পাঁচটি আরসিসি ছাতা ও বসার বেঞ্চ নির্মাণ করা হবে। পুরো জায়গাটিতে বাগান এবং গাছ লাগানো হবে। শিশুদের বিনোদনের জন্য আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন রাইড স্থাপন করা হবে।

পর্যটনের উক্ত ব্যবস্থার পাশাপাশি আউটার রিং রোড এবং ফিডার রোডেও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আউটার রিং রোডের সাথে চট্টগ্রাম ইপিজেডকে যুক্ত করা হচ্ছে। পেছনের দিকে একটি গেট তৈরি করে আউটার রিং রোড থেকেও যাতে ইপিজেড এ গাড়ি চলাচল করতে পারে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। র‌্যাব৭ কার্যালয়ের পাশ দিয়ে ৬০ ফুট চওড়া যেই ফিডার রোডটি আউটার রিং রোডের সাথে বিমানবন্দর সড়ককে যুক্ত করছে সেখানে মূল সড়কের যান চলাচলে যাতে কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয় সেজন্য গ্রেড সেপারেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চট্টগ্রামে কোন প্রকল্পে এই প্রথম গ্রেড সেপারেশন ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও উক্ত কর্মকর্তা জানান।

অপরদিকে সাগরিকা বিভাগীয় স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে যেই ফিডার রোডটি আসবে তাতে রিং রোড থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। ফ্লাইওভারটি সাগরিকা স্টেডিয়ামের পাশে সাগরিকা রোডে যুক্ত হবে। এতে নতুন করে আর কোন সড়ক নির্মাণ করতে হবে না। রিং রোড ধরেও যাতে স্টেডিয়ামে যাতায়ত করা যায় সেই সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

আউটার রিং রোড ফৌজদারহাটে এসে বিদ্যমান টোল রোডের সাথে যুক্ত হয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে যুক্ত হবে। টোল রোডের কাছ থেকে রিং রোড ফৌজদারহাটবায়েজিদ বোস্তামী বাইপাস রোডে যুক্ত হবে। এতে বাইপাস রোডটিও আউটার রিং রোডের অংশ হয়ে উঠবে। অর্থাৎ পতেঙ্গা থেকে কোন গাড়ি ইচ্ছে করলে বায়েজিদ বোস্তামী পর্যন্ত চলে আসতে পারবে। ওখান থেকে ষোলশহর দুই নম্বর গেট ধরে চট্টগ্রাম কক্সবাজার সড়ক, কিংবা অক্সিজেন কুয়াইশ সড়ক ধরে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত চলে যেতে পারবে। একইভাবে ঢাকা বা দেশের অন্যান্য স্থান থেকে আসা গাড়িগুলোও একইভাবে চলাচল করতে পারবে। উক্ত কর্মকর্তা জানান, আউটার রিং রোডের সাথে ইপিজেডকে যুক্ত করার ফলে ইপিজেড এবং বিমানবন্দর সড়কের গেটের উপর চাপ বহুলাংশে কমে যাবে। আবার ফৌজদারহাটবায়েজিদ বাইপাস সড়ককে এই সড়কের অংশে পরিণত করায় পুরো প্রকল্পটি একটি ভিন্ন মাত্রা পাচ্ছে। ফৌজদারহাটবায়েজিদ সড়ককে গিয়ে একটি অবহেলিত অঞ্চলে আবাসন এবং শিল্পায়ন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

সিডিএ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুচ ছালাম গতকাল বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসাথে আড়াই হাজার কোটি টাকার আর কোন প্রকল্প চট্টগ্রামে কোনদিন বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সেই ঘোষণার সত্যতা প্রমাণ করেছেন। চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা প্রকল্প দুইটি উপস্থাপন করে যৌক্তিকতা তুলে ধরেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প দুইটির বাড়তি ব্যয় অনুমোদন দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আউটার রিং রোড প্রকল্প চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম নগরীর বহু সমস্যারই স্থায়ী সমাধান হবে। উন্নয়নের মূল ধারা থেকে বঞ্চিত একটি এলাকার উন্নয়নের মূল স্রোতে প্রবেশ করবে। এই সড়কের স্টার্টিং পয়েন্টে টানেল যুক্ত হবে। এতে করে সড়কটির গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। পতেঙ্গা এবং হালিশহরের সমুদ্র উপকূলে বিস্তৃত এলাকায় উপশহর গড়ে তোলা হবে।

চট্টগ্রামের বিস্তৃত এলাকার চেহারা পাল্টে দেয়ার ক্ষেত্রে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, এলাকার লাখ লাখ মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন কোন পর্যায়ে যাবে তা এই মুহূর্তে কল্পনাও করা যাচ্ছে না। এই সড়কটি নির্মিত হলে পুরো এলাকার উন্নয়ন কল্পনাকে ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, এই রিং রোড শহর রক্ষা বাঁধ ছাড়াও যান চলাচলে গতিশীলতা এবং পর্যটন, শিল্পায়ন এবং আবাসনে বৈপ্লবিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।’ সিডিএ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বলেছেন, আউটার রিং রোড শহর রক্ষা বাঁধ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই বাঁধটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা, বেসরকারি বেশ কয়েকটি আইসিডি, চট্টগ্রাম ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড, ইস্টার্ন রিফাইনারি, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়াত্ত তেল কোম্পানির ডিপো, নৌ ও বিমানবাহিনীর স্থাপনা, সাইলো জেটি, খাদ্য গুদাম, ইস্টার্ন ক্যাবলস এর কারখানার মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করবে। এছাড়া নগরীর উপকূলীয় এলাকার ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী, ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী, ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা, ৩৭ নম্বর উত্তরমধ্যম হালিশহর, ৩৮ নম্বর দক্ষিণমধ্যম হালিশহর, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর, ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা (একাংশ) এবং ৪১ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা (বাকি অংশ) ওয়ার্ডের বিশ লাখেরও বেশি মানুষ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আতংক থেকে মুক্তি পাবে।

'সংবিধান charbhadrason mahbubul hasan pinku news of bangladesh newsofbangladesh newsofbangladesh.com newsofbangladesh.net আইন পরিবর্তন মিনিটের ব্যাপার' আফজাল হোসেন খান পলাশ ঐক্যফ্রন্টের ১৬ জনের নাম চূড়ান্ত খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলের মানববন্ধন চলছে চরভদ্রাসনের হাট বাজারে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্যের ছড়াছড়ি ; স্বাস্থ্য ইন্সপেক্টরের তদারকি নেই চরভভদ্রাসন জাতীয় নির্বাচন নিউজ অব বাংলাদেশ নিউজ অব বাঙ্গাদেশ পকেটে প্রশ্ন নিয়ে কেন্দ্রের বাইরে শিক্ষক ফরিদপুর জেলা ফরিদপুর যুবদল ফরিদপুর রাজনীতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বিএনপির প্রতি কঠোরই থাকবে আ.লীগ মাহবুবুল হাসান পিংকু সাংবাদিক ফরিদপুর ৭ দফার ভিত্তিতে গণভবনে সংলাপ ‘রাস্তায় গেলে মারও খেতে হতে পারে’!